মৃদু বিষধর সাপ
12 June, 2023

মূল আলোচনাঃ কোনো সাপ মৃদু বিষধর হওয়ার পেছনে দুইটা বিষয় জড়িত, বিষ দাঁতের ধরণ এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতা।
১. বিষ দাঁতের ধরণ(type of fangs): মৃদু বিষধর সাপেদের বিষদাঁতের ধরণ “ওফিসটোগ্লাইফা”। এদের পেছনের দিকে ছোট বিষদাঁত (rear fangs) থাকে। বিষদাঁতের সামনে 4+ সাধারণ “অ্যাগ্লাইফা” বা নিরেট দাঁত থাকে। এদের বিষদাঁত সুগঠিত নয়। বিষদাঁতের অভ্যন্তরীন অংশ ফাঁপা থাকেনা, এরা সিরিঞ্জের মতো বিষ ইনজেক্ট করাতে অক্ষম। দাঁতের মাঝে খাঁজ কাটা থাকে, খাঁজ কাটা অংশ দিয়ে বিষ প্রবাহিত হয়ে মানবশরীরে প্রবেশ করতে পারে।
২। অভ্যন্তরীণ জটিলতা(Internal complications): মৃদু বিষধর সাপেদের প্রচলিত বিষ থলি(venom gland) থাকে না। প্রচলিত বিষ থলির পরিবর্তে এদের একটা বিশেষ ধরণের গ্রন্থি থাকে। যেটাকে “ডুভেরনয়ের গ্রন্থি” বা Duvernoy’s gland বলে। ১৮৩২ সালে Georges Louis Duvernoy নামের বিখ্যাত ফরাসি প্রাণীবিদ এই গ্রন্থি সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেছিলেন। তার নামেই এই গ্রন্থির নামকরণ করা হয়েছে। প্রচলিত বিষ গ্রন্থি থেকে ডুভেনয়ের গ্রন্থি ছোট হওয়ায় অনেক কম বিষ উৎপন্ন করে, এবং বিষ সংরক্ষণের ক্ষমতাও কম। প্রচলিত বিষ গ্রন্থি থেকে বিষ প্রয়োগের জন্যে Compressor muscle থাকে যা নিচের চোয়ালের সাথে যুক্ত থাকে। কিন্তু ডুভেনয়ের গ্রন্থিতে চাপ সৃষ্টিকারী কোনো পেশি থাকেনা। ফলে মৃদু বিষধর সাপের ক্ষেত্রে তার ভিকটিমকে প্রভাবিত করতে বার বার গভীর ভাবে কামড়াতে হবে অথবা কামড় দিয়ে অনেক্ষণ আটকে থাকতে হবে, যেটা প্রায় অসম্ভব।
মৃদু বিষধর সাপ কামড়ালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষ প্রয়োগে অক্ষম হয়, বিষ প্রয়োগ করলেও সেটা মৌমাছির হুল ফোটানোর মতো যন্ত্রণা সৃষ্টিকারী হতে পারে। কামড়ানোর স্থান ২-১ ঘন্টা ফুলে থাকতে পারে। কামড়ানোর স্থান চুলকাতে পারে, অ্যালার্জি থাকলে সেটার লক্ষ্মণ প্রকাশ পেতে পারে।
মৃদু বিষধর সাপের কামড়ে অ্যান্টিভেনোম প্রয়োজন হয়না, সামান্য মাত্রার বিষ আমাদের শরীরের অ্যান্টিবডি প্রতিরোধ করতে সক্ষম।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন