পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

পড়ন্ত বস্তু, গ্যালিলিও ও একটি প্যারাডক্স

ছবি
  পড়ন্ত বস্তু, গ্যালিলিও ও একটি প্যারাডক্স পড়ন্ত বস্তুর ব্যাপারে আজব একটা ধারণা পোষণ করতেন অ্যারিস্টোটল। ভাবতেন, মহাবিশ্বের কেন্দ্র হলো পৃথিবী। মহাবিশ্বের তাবৎ জিনিস তাই সেই কেন্দ্রের দিকে আসতে চায়। তাহলে ধোঁয়া আর আগুন কেন ওপরে ওঠে? এর যুত্সই ব্যাখ্যা ছিল না অ্যারিস্টোটলের কাছে। জোড়াতালি দিয়ে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করাবার চেষ্টা করেন। বলেন, যেসব বস্তুর স্বর্গীয় গুণ আছে, সেগুলো ওপরে উঠে যায়। আর যে সব বস্তু স্বর্গীয় নয়, স্বর্গে যাদের স্থান নেই, তাদের যতই ওপরে ওঠানো হোক, ঠিক পৃথিবীতে ফিরে আসবে। অ্যারিস্টোটলের যুগে আরেকটা বড়সড় ভুল ধারণা চালু ছিল। দুটি পড়ন্ত বস্তু যদি সমান ওজনের (ভরের) না হয়, তাহলে ওপর থেকে একই গতিতে পৃথিবীতে পড়বে না। ভারি বস্তুটির পড়ার গতি বেশি হবে, হালকা বস্তুটির কম। আবার যদি হালকা বস্তুর ওজন বাড়ানো হয়, তাহলে তার পতনের গতিও নিশ্চয়ই বাড়বে অ্যারিস্টোটলের মত অনুসারে। এখন ১ কেজি আর ১০ কেজি ওজনের পাথরদুটো যদি দড়ি দিয়ে বেঁধে ওপর থেকে ফেলা হয়, তাহলে কী হবে? এখানেই ঝামেলাটা বাঁধে। তৈরি হয় প্যারাডক্স। ভারী বস্তুটা চাইবে দ্রুত তার নিজের বেগে পড়তে। অন্যদিকে হালকা বস্তুও পড়তে চাই...

পৃথিবী সবকিছুই তার কেন্দ্রের দিকে টানে। যেমন বাতাস, তাহলে আগুন কেন অভিকর্ষের বিপরীতে প্রবাহিত হয়?

ছবি
পৃথিবী সবকিছুই তার কেন্দ্রের দিকে টানে। যেমন বাতাস, তাহলে আগুন কেন অভিকর্ষের বিপরীতে প্রবাহিত হয়? প্রশ্নটি ভালোই ছিলো। তবে আমি বেশী অবাক হয়েছি এই প্রশ্নের অন্যন্য উত্তরগুলো দেখে। তারা এত জ্ঞানী যে, সহজ একটি বিষয় জটিল করে তুলেছে। বারবার আইনেস্টাইনের সেই কথাটা মনে পড়ে - তুমি যদি কোন জিনিস সহজভাবে বোঝাতে না পারো, তার মানে, তুমি নিজেই জিনিসটা ভালো বোঝ না। পদার্থবিজ্ঞানের একেবারে প্রাথমিক জ্ঞান - পদার্থ কি? একজন ৫ম শ্রেনীর শিশুরও এটা জানার কথা। পদার্থ হল- যার আয়তন আছে, ওজন আছে, স্থান দখল করে, বল প্রয়োগ করলে বাধা দেয়। পানি, গ্যাস, বাতাস, ইত্যাদি সবই পদার্থ। তবে, আগুন কোন পদার্থ নয়। আগুনের আয়তন ও ওজন নেই, এটি স্থান দখল করে না, বল প্রয়োগ করলে বাধা দেয় না। পদার্থ নয়, এমন আরো জিনিস আছে, যেমন আলো, শব্দ, তাপ ইত্যাদি। এগুলো কিন্তু পৃথিবীর মধ্যকর্ষণ শক্তি টানে না। কারন একটাই, এমন টানাটানি (আকর্ষণ) করতে হলে, জিনিসটি অবশ্যই পদার্থ হতে হবে। আগুন কোন পদার্থ নয়, এটাকে পৃথিবীর মধ্যকর্ষণ শক্তি টানে না। তবে, আগুন উপরে উঠার পেছনে মধ্যকর্ষণ শক্তির ভুমিকা রয়েছে। আগুনের আশেপাশে বাতাস ঘিরে থাকে। সেই বাতাসের গরম...

কি হবে পৃথিবীতে যদি মাত্র ৫ সেকেন্ড অক্সিজেন না থাকে!

ছবি
কি হবে পৃথিবীতে যদি মাত্র ৫ সেকেন্ড অক্সিজেন না থাকে! আচ্ছা এখন একটিবার ভেবে দেখুন তো পৃথিবীর সব অক্সিজেন যদি হঠাত উধাও হয়ে যেতো, বেশিক্ষণ না হয়ত শুধু পাঁচ সেকেন্ডের জন্যই। তাহলে কী হত? পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ২১ ভাগই অক্সিজেন। আর ৭৮ ভাগ নাইট্রোজেন। বায়ুমন্ডলের বড় অংশ জুড়ে না থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অক্সিজেন। অক্সিজেন ছাড়া প্রানী, উদ্ভিদ, পানি এমনকি মানুষও নিজস্ব অবস্থানে থাকতো না। অক্সিজেন, দ্বিপরমাণুক অম্লজান বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের একটি। উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সময় এই মৌলটি উত্‍পন্ন হয় এবং এটি সকল জীবের (উদ্ভিদ ও প্রাণীর) শ্বসনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। আচ্ছা এখন একটিবার ভেবে দেখুন তো পৃথিবীর সব অক্সিজেন যদি হঠাত উধাও হয়ে যেতো, বেশিক্ষণ না হয়ত শুধু পাঁচ সেকেন্ডের জন্যই। তাহলে কী হত? মনে হতেই পারে মাত্র পাঁচ সেকেন্ড নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখলেই তো হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পাঁচ সেকেন্ডে পৃথিবীর কি হবে? আশ্চর্য হলেও সত্যি, ভেঙ্গে পড়বে কংক্রিটের স্থাপনা, উল্কার মতই খসে পড়বে আকাশে উড়তে থাকা প্লেন, ঘটে যাবে পরিবেশের বিশাল বিপর্যয়। এবার একটু কল্পনা করুন, পাঁচ সেকেন্ড...

মহাবিস্ফোরণ; স্ফীত তত্ত্ব

ছবি
মহাবিস্ফোরণের পুর্বে ও পরে  ইনফ্লেশনারি বিগ ব্যাং মডেল ১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী এডুইন হাবল তাঁর বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে দেখলেন যে, মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি গুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটা দেখে তিনি বুঝতে পারছিলেন যে, এরা নিকটঅতীতে নিশ্চয় ই একে অপরের সাথে যুক্ত ছিল। আমাদের এই মহাবিশ্বই সম্ভবত একমাত্র মহাবিশ্ব নয়, এ রকম মহাবিশ্ব আছে একের অধিক,অসংখ্য, হয়ত বা কয়েক বিলিয়ন। আর এদের প্রত্যেকটি তে থাকতে পারে আমাদের সৌরজগতের মতো নিজস্ব সৌরসিস্টেম এবং বাসযোগ্য কোনো গ্রহ। কি চমকে গেলেন না কি? না, আমি বানিয়ে বলছি না। সমসাময়িক পদার্থবিজ্ঞানী "ডক্টর মিচিও কাকু" এই প্যারালাল ইউনিভার্স কে নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন, যার প্রথম ধারনা তুলে ধরেন ১৯৫৪ সালে। আমরা সবাই নক্ষত্রের সন্তান। কারণ নাক্ষত্রিক ধূলিকণা দিয়েই আমাদের দেহ তৈরী করা হয়েছে। আমাদের দেহের প্রতিটি অণু-পরমাণু একটি বিস্ফোরিত নক্ষত্রের অভ্যন্তরে এক সময় লুকিয়ে ছিলো। এমনকি আপনার বাম হাতের পরমাণু গুলো এসেছে একটি নক্ষত্র থেকে আর ডান হাতের গুলো এসেছে ভিন্ন আরেকটি নক্ষত্র থেকে। আক্ষরিক অর্থেই আমরা সবাই নক্ষত্রের সন্তান। লরেন্স ক্রাউন্স...

সাপ পরিচিতি-৪ চন্দ্রবোড়া

ছবি
 সাপ পরিচিতি-৪  সাপের নাম: চন্দ্রবোড়া, উলু বোড়া ইংরেজি নাম: Russell's Viper বৈজ্ঞানিক নাম: Daboia russelii রাসেল ভাইপার ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত একটি অন্যতম বিষধর সাপ। এই সাপ সবচেয়ে বিষাক্ত ও এর অসহিষ্ণু ব্যবহার ও লম্বা বহির্গামী বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন। আক্রমণের ক্ষীপ্র গতি ও তীব্র বিষাক্ত এই সাপ এশিয়ার সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ যাকে কিলিং মেশিন বলা হয়ে থাকে। এটি হিংস্রতায় পৃথিবীর ৫ম তীব্র বিষাক্ত সাপ ও দাঁতের দিক দিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম।  এই রাসেল ভাইপার সাপ আমাদের দেশে মহা বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় প্রথম। এখনো পর্যন্ত যার এন্টি ভেনম তৈরী হয়নি অনেক দেশে। তবে ভেনম তৈরীর কাজ চলছে বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশে। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্যু হয়। সাপটির বিষক্রিয়ায় অত্যাধিক রক্তক্ষরণ ঘটে এবং অনেক যন্ত্রণার পর মৃত্য হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভয়ে হার্ট অ্যাটাকেই অনেকের মৃত্যু হয়।  চন্দ্রবােড়া সাপ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চীন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, বার্মা ও ইন্দোনেশিয়ায় পাওয়া যায়। চন্দ...

Colors of the moon

ছবি
  Colors of the moon What cause the change in the colors? Colors of the Moon What color is the Moon? It depends on the night. Outside of the Earth's atmosphere, the dark Moon, which shines by reflected sunlight, appears a magnificently brown-tinged gray. Viewed from inside the Earth's atmosphere, though, the moon can appear quite different. The featured image highlights a collection of apparent colors of the full moon documented by one astrophotographer over 10 years from different locations across Italy. A red or yellow colored moon usually indicates a moon seen near the horizon. There, some of the blue light has been scattered away by a long path through the Earth's atmosphere, sometimes laden with fine dust. A blue-colored moon is more rare and can indicate a moon seen through an atmosphere carrying larger dust particles. What created the purple moon is unclear -- it may be a combination of several effects. The last image captures the total lunar eclipse of 2018 July ...

সাপ পরিচিতি-৩ কালনাগিনী

ছবি
সাপ পরিচিতি-৩ সাপের নাম বাংলা: কালনাগিনী (Kaalnagini), উড়ন্ত সাপ, উড়াল মহারাজ সাপ, সুন্দরী সাপ, কালসাপ, কালনাগ। ইংরেজি নাম: golden tree snake, gliding snake, ornate flying snake, golden flying snake, gold and black tree snake, flying tree snake. বৈজ্ঞানিক নাম: Chrysopelia ornata হিন্দি - কালা জিন। পরিচিতি: বাংলাদেশের মানুষ অন্য কোন সাপের নাম যা জানলেও কালনাগিনী সাপের নাম খুব ভালভাবেই জানে। এই কালনাগিনীর পরিচিয় গ্রামের আনাচে কানাচে থেকে শুরু করে শহরের অলি গলি সব জাগাতে। এর বড় কারণ হল কালনাগিনী বাংলাদেশের সাপের সিনেমা বা ছবি গুলির সবচেয়ে বড় চরিত্র। কালনাগিনীর প্রেম, নাগ নাগিনী ইত্যাদি অনেক ছবি বানানো হয়েছে কালনাগিনীর নামে। বেহুলা লখিন্দর এর কাহিনীতেও আছে কালনাগিনীর বড় চরিত্র। কালনাগিনীর তীব্র বিষ ও মানুষ মৃত্যু নিয়ে নানান আজগুবি কল্প-কাহিনী সমাজে থাকলেও এরা আসলে নির্বিষ সাপ। কাল নাগিনী বা কালনাগ এক ধরনের স্বল্প বিষধর সাপ। আকারে চিকন তাই এরা লাফিয়ে বা গ্লাইডিং করে এক গাছ থেকে অন্য গাছে যেতে পারে। এই সাপের তিনটি উপপ্রজাতি আছে। এরা সবাইই সামান্য বিষধর, যার বিষ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। এ...

স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার; এক মহাজাগতিক দুর্ঘটনা

ছবি
চ্যালেঞ্জারের অসমাপ্ত মিশন এক মহাজাগতিক দুর্ঘটনার উপাখ্যান! বিংশ শতাব্দীর আশির দশকের কথা। নাসার স্পেস শাটল প্রোগ্রাম জনসাধারণের জন্য তখন মামুলি ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। জনসাধারণ শাটল নিয়ে আগ্রহ অনেকখানি কমে গিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকান কংগ্রেসের কাছে শাটল টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট পেতে জনগণের সমর্থন খুবই দরকার ছিল। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের। নাসা প্রথমবারের মতো স্পেস স্টেশানে কিছু বাচ্চাদের পড়ালেখা করানো হবে বলে ঠিক করে। এবং সেটা সারা পৃথিবীতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এটা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও নাসা একটা বার্তা দিতে চেয়েছিল যে মহাকাশ সবার জন্য। এর নাম দেওয়া হয় এসটিএস-৫১- এল মিশন। এই প্রোগ্রামের জন্য একজন শিক্ষক দরকার ছিল। তাই মহাকাশে যাবার জন্য ১০০০০ জন শিক্ষক আবেদন করেন। এদের মধ্যে বাছাইক্রিয়া শেষে ক্রিস্টা নামের একজন শিক্ষিকা নির্বাচিত হন। তিনি স্পেসে নেওয়ার জন্য সকল প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার ওই শিক্ষিকাসহ ৭জনকে স্পেসে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু লঞ্চিংয়ের আগের দিন ফ্লোরিডার তাপমাত্রা মাইনাস ৬ ডিগ্রীতে নেমে আসে। এতে স্পেস শাটলটি পরের দিন ঠি...

চীনের প্রাচীর কি মহাশূন্য থেকে দেখা যায়?

ছবি
চীনের প্রাচীর কি  মহাশূন্য থেকে দেখা যায়? চীনের প্রাচীর একমাত্র মানবসৃষ্ট বস্তু যেটা চাঁদ থেকে বা মহাশূন্য থেকে দেখা যায় বলে প্রচলিত আছে। কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল তথ্য। মানবসৃষ্ট কোনো বস্তুই চাঁদ থেকে দেখতে পাওয়া সম্ভব নয়। দৈর্ঘ্য যা-ই হোক না কেন একটা নির্দিষ্ট পরিমান প্রস্থ না থাকলে সেই জিনিসকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যাবে না। যেমন: চুল। আমরা যদি একটি লম্বা চুল নিয়ে সেটিকে দূর থেকে দেখার চেষ্টা করি তাহলে চুলের দৈর্ঘ্য যথেষ্ট বেশী থাকা সত্ত্বেও তা সরু হওয়ায় আমরা দেখতে পাব না। চীনের প্রাচীর  চীনের প্রাচীর যদিও দৈর্ঘ্যে যথেষ্ট লম্বা কিন্তু এটি প্রস্থে মাত্র ৩০ ফুট। সেই হিসেবে চীনের প্রাচীরের চেয়ে আরো অনেক বেশী যোগ্যতা সম্পন্ন মানবসৃষ্ট বস্তু আছে যেগুলো ৩০ ফুটের চেয়ে অনেক অনেক বেশী চওড়া। ৭০ মাইল চওড়া হতে হলে ১২০০০ টিরও বেশী চীনের প্রাচীরকে পাশাপাশি যুক্ত করতে হবে।হিসেব করে দেখা যায় চাঁদ থেকে যদি পৃথিবীর কোনো বস্তুকে দৃষ্টিগোচরে আনতে হয় তাহলে তার মাত্রা হতে হবে অন্তত ৭০ মাইল বা ১১০ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থের যেকোনো একটিতে যদি এর চেয়ে পরিমান কম হয় তাহলে সেই বস্তুটিকে চাঁদ থেকে সনা...

আধুনিক পদার্থবিদ্যার জনক কে?

ছবি
 আধুনিক পদার্থবিদ্যার জনক কে? আধুনিক পদার্থবিদ্যা কে সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। থিওরি অফ রিলেটিভিটি এবং কোয়ান্টাম ফিজিক্স। সেক্ষেত্রে,রিলেটিভিটির জনক স্যার আলবার্ট আইনস্টাইন এবং,কোয়ান্টাম ফিজিক্সের জনক স্যার ম্যাক্স প্লাঙ্ক। কিন্তু, একটি নতুন পদার্থবিদ্যার যুগ শুধু একজন মানুষের হাত ধরে আসেনা। পদার্থবিদ্যার নতুন যুগ, বহু অজ্ঞাতনামা বিজ্ঞানীদের শত রাত জাগা "পরিশ্রমের ফল। সেখানে,শুধু একজন কে "জনক" উপাধি দেওয়ার কোনো মানে হয়না। ফিজিক্সের শুরুটা হয়েছিলি আর্কিমিডিসের হাতে। তবে সেটা ঠিক ফিজিক্স বলা যায় কিনা সন্দেহ আছে। কারণ, তিনি বলবিদ্যার অনেক প্রয়োগ জানতেন কিন্তু গণিতের ছাঁচে সেটা ফেলতে পারেননি। গ্যালিলিওকেও ফিজিক্সের জনক বলা হয়। কিন্তু সত্যিকার ফিজিক্সের জন্ম নিউটনের হাত ধরে। গ্যালিলিও গ্যালিলি, স্যার আইজ্যাক নিউটন এবং অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এই তিনজনকে সম্মিলিতভাবে (fathers of physics) পদার্থ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

সূর্যের নিকটতম তাঁরা

ছবি
  সূর্যের নিকটতম তাঁরা বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্রের ভিড়ে সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টরী। হ্যাঁ, এটিই সবচাইতে নিকটতম তাঁরা । সূর্যের নিকটতম প্রতিবেশি এই তাঁরাটির দুরত্ব ৪.৩ আলোক বর্ষ । আলোক বর্ষ হল বিশাল দুরত্ব মাপার জন্য ব্যবহৃত একক।    আমরা জানি আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার দুরত্ব অতিক্রম করে। এই গতিতে আলোক রশ্মি এক বছরে যে পথ অতিক্রম করে তাই হল এক আলোক বর্ষ। কিলোমিটারে প্রকাশ করলে নিঃসন্দেহে এটি হবে একটি বিশাল সংখ্যা। ৪.৩ আলোক বর্ষ দুরত্বের যথার্থ অর্থ হল তাঁরকাটি থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৪ বছর ৪ মাসের কাছাকাছি সময় যেখানে সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট।   ঠিক এই মূহুর্তে যদি তাঁরকাটি নিভে যায় অর্থাৎ ধ্বংস হয়ে যায় আমরা কিন্তু সেটি বুঝতে পারবো ৪ বছর ৪ মাস রে। হ্যাঁ এই ব্যাপারটি মহাকাশে অহরহই ঘটে চলেছে। একটি তাঁরকা নেই কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আমরা সেটি দেখছি তাই আলোর চেয়ে মজার ব্যাপার আর কি হতে পারে?

পৃথিবীর প্রথম রঙিন ছবি

ছবি
১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে তোলা পৃথিবীর প্রথম রঙিন ছবি পৃথিবীর প্রথম রঙিন ছবি ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে মহাকাশ থেকে তোলা হয় পৃথিবীর প্রথম রঙিন পূর্ণ অবয়ব বিশিষ্ট ছবি। অ্যাপোলো -১৭ নভোযানে করে যখন নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন তখন ছবিটি তোলা হয়। এই বিখ্যাত ছবিটিকে আমরা "নীল মার্বেল" (Blue Marble) নামে চিনি। সূর্য তাদের পেছনে অবস্থান করায় অতি উজ্জ্বলভাবে আলোকিত এই নীল গ্রহটির চমৎকার ফটোটি তুলে ফেলেন তাদের ক্যামেরায়। তবে এর আগেও আরো তিনবার পৃথিবীর ছবি তোলা হয়েছে।  ১৯৪৬ সালের ২৪ অক্টোবর বায়ুমণ্ডলের বাহিরে ভুমি থেকে মাত্র ৬৫ মাইল উপর থেকে প্রথম মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সাদাকালো ফটো তোলে ভি-২ নামক রকেটে সংযুক্ত ক্যামেরা। তারপর ১৯৪৭ সালের মার্চে তোলা হয় আরেকটি ছবি। ১০১ মাইল উচ্চতা থেকে।  ১৯৬৬ সালের ২৩ অগাস্ট লুনার অরবিটার-১ নামের নভোযান থেকে সুদুর ২ লক্ষ ৩৬ হাজার মাইল দূর থেকে তোলা হয় আরেকটি ছবি। ফেসবুকে আমি   https://facebook.com/rumman.naik

সাপ কি দুধ খায়? দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষা; একটি ভ্রান্ত ধারণা

ছবি
"দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা" সাপ কি দুধ খায়?  সাপ কি দুধ খায়?  বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় একটি বাগধারা আছে "দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষা"। বাগধারা টি এই অর্থে ব্যবহৃত হয়. দুধ সুষম খাবার, শুধু আয়রণ উপাদানে একটু ঘাটতি আছে যেটা কলায় প্রচুর পরিমাণ আছে। অর্থাৎ সব পুষ্টিকারক খাবার খাইয়ে শত্রুকে পোষা। বাগধারা তো বাগধারা ই। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাগধারাটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ সাপ কখনো পোষ মানেনা। তারচে মজার ব্যাপার হলো সাপ কখনোই দুধ বা কলা খায়না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গিয়ে সাপ কেনো দুধকলা "খায়না? অনেকেই তো বলেন সাপ দুধ খায়, তাহলে?   আমরা যা খাই সব খাবারই আমিষ, শর্করা ও স্নেহ জাতীয়। প্রতিটা খাবার হজম করার মতো এনজাইম আমাদের পাকস্থলী ও নাড়িভুঁড়িতে আছে।   আমরা জানি, গরু একটি তৃণভোজী প্রাণী। গরুকে আপনি কাঁচা বা রান্না করা মাংস খাওয়াতে পারবেননা। গরু মাংস কখনোই খাবেনা। তার পেটে এটা হজম হবেনা। মাংস হজম করার মতো এনজাইম গরুর পেটে থাকেনা। লতাপাতা ও ঘাস হলো গরুর খাদ্য।   ঠিক তেমনিভাবে সাপ হলো সম্পূর্ণ মাংসাশী প্রাণী। সাপের পেটে প্রোটিন বা মাংস হজমের এনজাইম থাকে। তাই এরা শুধুমাত্র পোকামাকড়, ইঁদ...

সাপ পরিচিতি-২ গোখরো

ছবি
সাপ পরিচিতি, গোখরো সাপ সাপের নাম:গোখরো, পদ্মগোখরো, খইয়া/ খৈয়া গোখরো, খরিস, নাগ ইংরেজি নাম: Spectacled cobra.Indian cobra.Asian cobra. Binocellate cobra.  Scientific name: Naja Naja, N naja.  ভারতীয় উপমহাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের অন্যতম এক বিষধর সাপ হল এই স্পেক্টাকল্ড কোবরা বা গোখরো সাপ। এই জাতীয় সাপ তাদের ফণার জন্য বিখ্যাত ও পরিচিত। ঘাড়ের কাছে হাড়কে সম্প্রসারণ করে ফণা মেলে ধরে তখন চমৎকার ফণাটি বিস্তৃত হয়। গোখরো প্রজাতির সকল সাপই উত্তেজিত হলে তার ফণা মেলে ধরে। এই কোবরা ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও মিশর, আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, বার্মা, চীন ইত্যাদি দেশ ও অঞ্চলে দেখা যায়। আর ভারতে এই সাপ এতোই বেশি যে প্রায় প্রতিটি ঘরেই কোনো না কোনো দিন এই সাপের দেখা পাওয়া যায়। এই সাপের কামড়ে প্রতিদিন অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে ভারতে। পরিচিতি: এই সাপ চেনার সহজ উপায় হলো, ফণার পিছন দিকে "U" এর মতো চিহ্ন থাকে, অথবা পুরনো দিনের ডাঁটিছাড়া জোড়া চোখের চশমার মতো দাগ থাকে। যার দরুন এই কারণেই সাপটির নামকরণ করা হয় specticled cobra নামে। বাঙ্গালিরা এটাকে গোখরা সাপ নামে চেনে। ইন্ডিয়ায় এটাকেই নাগ/ নাগিন বলে। প...

মাকড়সা নিজের জালে আটকে যায়না কেনো?

ছবি
মাকড়সা নিজের জালে আটকে যায়না কেনো ?

মাইক্রোওয়েভ ওভেন যেভাবে কাজ করে

ছবি
Microwave oven প্রথম প্রথম খুব অবাক লাগত যে, আমি প্লেটে করে খাবার দিচ্ছি ওভেনে। খাবার গরম হচ্ছে, কিন্তু প্লেট গরম হচ্ছে না। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? কারণ ওভেন থেকে যে গরম বাতাস খাবারকে গরম করার কথা, তা তো একই সাথে প্লেটটিকেও গরম করার কথা! কিন্তু সেরকম তো হচ্ছে না! যারা যন্ত্রটি সম্পর্কে সামান্য জানেন তারা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন আমার উপরের ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল! ওভেনে আসলে এরকম কোনই যন্ত্র নেই যা থেকে কোন গরম বাতাস বের হয়ে খাবারকে গরম করে।  আসলে ‘মাইক্রোওভেন’ এই নামটিতেই অনেকটা এর কাজের মূলনীতি লুকানো আছে। কি? ধরতে পারলেন না? ইংরেজিতে ব্যাপারটি পরিস্কার বুঝতে পারবেন। Micro + wave + oven = Microwave oven (যাকে আমরা সচরাচর ‘মাইক্রোওভেন’ নামে ডেকে থাকি)। মাইক্রোওভেন এ আসলে মাইক্রোওয়েভস এর মাধ্যমে খাবার গরম করা হয়। সাধারণত 2500 মেগা হার্জ বা 2.5 গিগা হার্জ এর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় এসব যন্ত্রে। এই কম্পাঙ্কের তরঙ্গের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। তা হল এই কম্পাঙ্কের তরঙ্গ কেবলমাত্র পানি, চর্বি এবং চিনি জাতীয় বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। আর শোষিত হওয়া মাত্রই তরঙ্গটি আনবিক তাপগতিতে পরিণত হয় এবং বস্তুটি...

সাপ পরিচিতি -১ কেউটে

ছবি
সাপের নাম: কেউটে সাপ কেউটে সাপ ইংরেজি নাম: Monocled cobra, Monocellate cobra, Indian spitting cobra সায়েন্টিফিক নাম: Naja kaouthia হিন্দী নাম: নাগ/নাগিন, नाग/नागिन  এই সাপটি হলো গোখরা প্রজাতির একটি সাপ যা দক্ষিণ এশিয়ায় দেখা যায়। এ প্রজাতির সাপ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও মিশর, আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, বার্মা, চীন ইত্যাদি দেশ ও অঞ্চলে দেখা যায়। পরিচিতি: কেউটে সাপের ফণার পিছনে গরুর ক্ষুরের মত একটা চিহ্ন থাকে যার থেকে বাংলা গোক্ষুর নামটি এসেছে। অন্যদিকে ইংরেজিতে মনোকলড অর্থ হল একচোখা। এ সাপটিকে মনোকলড বলার কারন হল এই সাপের ফণার পিছনে ইংরেজি "0" এর মতো গোল দাগ থাকে যা দেখতে একচোখা চশমার মত লাগে তাই এর ইংরেজি নাম মনোকল্ড কোবরা। এই চিহ্নের দ্বারা স্পেক্টাকল্ড কোবরা ও মনোকলড কোবরা কে আলাদা করা যায়। সকল গোখরা প্রজাতির সাপ উত্তেজিত হলে ফণা মেলে ধরে। সাপের ঘাড়ের লম্বা হাড় স্ফীত হয়ে ওঠে, তাতে চমৎকার ফণাটি বিস্তৃত হয়। অনেকে ভুলবশত গোখরা/কেউটে বলতে শুধুমাত্র স্পেকটাকলড কোবরা বা মনোকল্ড কোবরাকে বুঝে থাকে। এটি আসলে একটি বৃহৎ সর্পগোষ্ঠির সাধারণ নাম। কেউটে সাপ মুলত নিশাচর। তবে ভা...

টার্ডিগ্রেড; এক আশ্চর্যরকম প্রাণী

ছবি
  টার্ডিগ্রেড।।। পৃথিবীর সব ধরনের দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরার বিশ্বরেকর্ড সম্ভবত এই প্রাণীটির রয়েছে। জানেন কি, শত বিপদ ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও পৃথিবীতে টিকে থাকার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি কোন প্রাণীর? পৃথিবী ধ্বংস বা সব মানুষ মারা যাবার পরও কি কোন প্রাণী বেঁচে থাকবে? যদি বেঁচে থাকে তাহলে সেই কঠিন প্রাণ প্রাণীটি কি? যদি তারার বিস্ফোরণ বা গ্রহাণুর আঘাতে মানুষ ধ্বংস হয়ে যায় তবু টার্ডিগ্রেড প্রাণীদের কোন ক্ষতি হবে না। তাই যদি দেখা যায় প্রাণের বিনাশ ঘটছে তবুও একেবারেই প্রাণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে সেটা ধরে নেয়া যায় না। এবার কঠিন প্রাণের এই টার্ডিগ্রেড বা ‘জল ভাল্লুক’ সম্পর্কে জানা যাক। ক্ষুদ্রাকৃতির এ প্রাণীটি উচ্চতায় সর্বোচ্চ অর্ধ মিলিমিটার হয়ে থাকে। কোন প্রকার খাবার ও জল ছাড়াই এরা বেঁচে থাকতে পারে ৩০বছর পর্যন্ত। ঘরের শীতল আবহাওয়া কিংবা সর্বোচ্চ ১৫০ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও এটি সহ্য করতে পারে। মহাশূণ্যর পরম শূণ্যতা –ভাবুন তো কোন বদ্ধ জায়গায় বা একটু বাতাস কম জায়গায় আমাদের কেমন শ্বাসবন্ধ লাগে। বাতা্স(অক্সিজেন) ছাড়া আমরা বা অন্য প্রাণীরা কিছুক্ষণের মধ্যেই অক্কা। কিন্তু এই ‘টার্ডিগ্রেড’ পরম শূণ্যতায়...