সাপের নাম: কেউটে সাপ
ইংরেজি নাম: Monocled cobra, Monocellate cobra, Indian spitting cobra
সায়েন্টিফিক নাম: Naja kaouthia
হিন্দী নাম: নাগ/নাগিন, नाग/नागिन
এই সাপটি হলো গোখরা প্রজাতির একটি সাপ যা দক্ষিণ এশিয়ায় দেখা যায়। এ প্রজাতির সাপ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও মিশর, আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, বার্মা, চীন ইত্যাদি দেশ ও অঞ্চলে দেখা যায়।
পরিচিতি:
কেউটে সাপের ফণার পিছনে গরুর ক্ষুরের মত একটা চিহ্ন থাকে যার থেকে বাংলা গোক্ষুর নামটি এসেছে। অন্যদিকে ইংরেজিতে মনোকলড অর্থ হল একচোখা। এ সাপটিকে মনোকলড বলার কারন হল এই সাপের ফণার পিছনে ইংরেজি "0" এর মতো গোল দাগ থাকে যা দেখতে একচোখা চশমার মত লাগে তাই এর ইংরেজি নাম মনোকল্ড কোবরা। এই চিহ্নের দ্বারা স্পেক্টাকল্ড কোবরা ও মনোকলড কোবরা কে আলাদা করা যায়।
সকল গোখরা প্রজাতির সাপ উত্তেজিত হলে ফণা মেলে ধরে। সাপের ঘাড়ের লম্বা হাড় স্ফীত হয়ে ওঠে, তাতে চমৎকার ফণাটি বিস্তৃত হয়।
অনেকে ভুলবশত গোখরা/কেউটে বলতে শুধুমাত্র স্পেকটাকলড কোবরা বা মনোকল্ড কোবরাকে বুঝে থাকে। এটি আসলে একটি বৃহৎ সর্পগোষ্ঠির সাধারণ নাম।
কেউটে সাপ মুলত নিশাচর। তবে ভাের এবং সন্ধ্যায় এরা বেশি আনাগোনা করে থাকে। এরা জলাশয়ে থাকতে বেশি পছন্দ করে। মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে, চাষের জমি, বনাঞ্চল বা ধানক্ষেতের আশেপাশের ইদুরের গর্তে থাকতে ভালবাসে। জলাভূমি, কৃষিজমি, ধানের গােলায়, ছােটোখাটো ঝােপঝাড়, পুকুরের ধারে এবং গাছের কোঠরেও দেখা যায় এদের। সাপ ছোট থেকে ছোট জায়গায় তাদের বাসস্থান করে নিতে পারে।
প্রজনন :
কেউটে সাপেরা জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে একসাথে ২০-৩০ টা ডিম পাড়ে। ৫৫ -৭০ দিনের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা বেরােয়। বড়দের মতো জন্মলগ্ন থেকেই ছোট কেউটেদের বিষদাঁত ও বিষথলি থাকে। বেবি কোবরা গুলো জন্ম থেকেই স্বাধীন এবং বড় কোবরা গুলোর মতো সম্পূর্ণভাবে বিষাক্ত ও। প্রাপ্তবয়স্ক সাপেদের চেয়ে তাদের বাচ্চাকাচ্চাগুলো বেশি পরিমাণে বিষ ঢালে। কারণ, বিষধর সাপের বাচ্চাগুলো তাদের বিষথলিতে বিষ জমা রাখতে পারেনা। তাই তারা তাদের পুরো বিষটাই ছোবলের সময় মানুষের শরীরে ঢেলে দেয়।
বিষ:
এদের বিষে রয়েছে neurotoxins ও cytotoxins , যে বিষ খুবই মারাত্মক। যা সরাসরি নার্ভ ও পেশীগুলোতে আঘাত করে। যার ফলে স্নায়ুগুলো অকেজো হয় পড়ে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়, হৃদযন্ত্রের কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়। 40/50 মিনিটস সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু অনিবার্য।
সুতরাং, সবার কাছে রিকোয়েস্ট একটাই। কাউকে বিষাক্ত সাপে কামড়ালে কোনো কবিরাজ বা ওঝার কাছে না গিয়ে সরাসরি সরকারি হসপিটালে যাবেন। আর অধিকাংশ সাপ কিন্ত বিষধর নয় তাই সাপের কামড় মানেই মৃত্যু নয়। অনেকেই নির্বিষ সাপকে বিষাক্ত মনে করে হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন