সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

অবসরে দেখতে পারেন সায়েন্স ফিকশন মুভি ইন্টারস্টেলার (Interstellar)...


মুভির নাম: ইন্টারস্টেলার

পরিচালক ও লেখক: ক্রিস্টোফার নোলান

ধরন: থ্রিলার, ড্রামা, অ্যাডভেঞ্চার 

প্রকাশকাল: ২০১৪

ব্যাপ্তি: ২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট

আইএমডিবি রেটিং: ৮.৭

পুরস্কার: সেরা ভিজ্যুয়াল এফেক্টের জন্য অস্কার


ক্রিস্টোফার নোলানের ইন্টারস্টেলার কেবল সাধারণ বিজ্ঞান কল্পকাহিনী মুভি নয়, এটা একটা মাস্টারপিস। ছবিটির গল্প শুরু হয় এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে প্রবল ধূলিঝড় ও খাদ্যের অভাব। মানবজাতিকে বাঁচানোর শেষ আশা হিসেবে কুপার নামে এক প্রাক্তন পাইলট বাধ্য হয়ে বেরিয়ে পড়েন মহাকাশ অভিযানে। তাঁর মূল লক্ষ্য শনি গ্রহের কাছে খুঁজে পাওয়া একটি ওয়ার্মহোলের (Wormhole) মধ্য দিয়ে ছুটে যাওয়া মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে, খুঁজে বের করা নতুন কোনো বাসযোগ্য গ্রহ। মুভিতে টাইম ডাইলেশন, ব্ল্যাকহোলের মতো জটিল ও আকর্ষণীয় বৈজ্ঞানিক অনেক বিষয় দেখা যাবে। শেষ পর্যন্ত কুপার কি খুঁজে পায় নতুন কোনো গ্রহ? কী আছে ওয়ার্মহোলের ওপারে? জানতে দেখতে হবে মুভিটি।


ইন্টারস্টেলার মুভিটি অনেকেই দেখেছেন। অত্যন্ত উপভোগ্য সায়েন্স ফিকশন মুভি। মুভিটির প্লট নিয়ে আলোচনা করে স্পয়লার দেওয়া ঠিক হবে না, যদিও যথেষ্ট পুরোনো হয়েছে মুভিটি। তবে মোটাদাগে বলা যায়, অনতিদূর ভবিষ্যতের ছবি আঁকা হয়েছে মুভিটিতে। তখন পৃথিবী পরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে। তখনকার মানুষ স্পেস ট্রাভেলে সক্ষম, কিন্তু ঘরের অবস্থা সঙিন বলে স্পেস মিশনগুলো আপাতত নিষ্প্রভ। এমতাবস্থায় ঘটনাচক্রে মুভিটিতে ওয়র্মহোল দিয়ে ভ্রমণ, দানবাকৃতির কৃষ্ণবিবর দর্শন, বিচিত্র বাহ্যগ্রহ বা এক্সোপ্লানেটে ভ্রমণ, দানবাকৃতির কৃষ্ণবিবরের ঘটনাদিগন্তের সীমানায় নায়কের পঞ্চমমাত্রা লাভ, স্পেসটাইমের রহস্যকে কাছ থেকে দেখা, গ্র্যাভিটির কারুকাজ ইত্যাদি মুভিটির আকর্ষণীয় বিষয়।


আসলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ধারণার ভিত্তিতে বানানো হয়েছে এ মুভি। কিন্তু কেমন সেই ভিত্তি? কীভাবেই-বা ওয়র্মহোল বা গার্গাঞ্চুয়ার মতো ব্ল্যাকহোল তৈরি হতে পারে, তার আশপাশে স্থান-কালের বক্রতা কেমন রূপ গ্রহণ করে? আর সেই চরম স্পেসটাইমে আমরা আর কী কী ভৌত প্রপঞ্চ আশা করতে পারি? এমন মহাজাগতিক পরিস্থিতিতে কী রকম গ্রহ থাকতে পারে, সেসব গ্রহের আশ্চর্য ঘটনার দু-একটি এই মুভিতে দেখানো হয়েছে।


মুভিটি ক্যালটেকের বিখ্যাত পদার্থবিদ কিপ থর্নের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, কিংবা বলা যায় যাঁর সার্বক্ষণিক বুদ্ধি-পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। মহাকর্ষবিষয়ক একজন জগত্খ্যাত বিশেষজ্ঞ উনি। তাঁর আগের বই ব্ল্যাকহোলস অ্যান্ড টাইম ওয়ার্পসও বিখ্যাত। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান গ্রাভিটেশন নামের ঢাউস বইটি। কেউ যদি মহাকর্ষ শিখতে চায়, তাহলে এই বই পড়তেই হবে। আন্ডারগ্র্যাড থেকে পিএইচডি পর্যন্ত মহাকর্ষ বিষয়ে নানা পর্যায়ের খুঁটিনাটি বিজ্ঞান এই বইয়ে আছে। কিপ বহুদিন ধরে এক্সাক্ট সায়েন্সের ভিত্তিতে একটি মুভি বানানোর চিন্তা করছিলেন। এর আগে কার্ল সাগানের বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন কনট্যাক্ট লেখার সময় ‘সময় ভ্রমণ’-এর ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ চান। তিনি প্রায় ১৬ পাতার সমীকরণ কষে এমন এক সমাধান দিয়েছিলেন যে সাগানকে সেই গল্প নতুন করে লিখতে হয়েছিল। পরে সে গল্প নিয়ে মুভিও হয়েছে। অতএব এসব চিন্তাবীজ আগে থেকেই তাঁর মাথায় ছিল-প্রায় কুড়ি বছর ধরে তাঁর চিন্তার ফসল ইন্টারস্টেলার মুভি। এ মুভিতে পাঁচ মাত্রার কথা, ব্ল্যাকহোলের কোল ঘেঁষে টেসারেক্টের কল্পনার কথা, পাঁচ মাত্রিক সত্তা বাল্ক-বিয়িংয়ের কথা, টাইম ট্রাভেলের কথা, ওয়ার্মহোলের কথা, কক্ষপথের স্ট্যাবিলিটির কথা, ব্রেন বিশ্বের কথা, কম্পিউটার গ্রাফিকসের কথা, আইনস্টাইনের সমীকরণের বিবিধ সমাধানের কথা, জোয়ার বলের কথা। এসব বৈজ্ঞানিক চিন্তার বাস্তব সম্ভাবনা কী? কিপ থর্নের মতে, বাস্তব সম্ভাবনা এক জিনিস আর তাত্ত্বিক সম্ভাবনা আরেক জিনিস। এই মুভিতে সেব ভৌত প্রপঞ্চ দেখানো হয়েছে এর সবই পদার্থবিজ্ঞানের কোনো না কোনো তত্ত্বের আলোকে সম্ভব, অন্তত তাত্ত্বিকভাবে। তবে বাস্তব হলো সব তত্ত্বের রূঢ় পরীক্ষক। বাস্তবে মিলল তো টিকে গেল, নইলে বাতিল। এই হলো ব্যাপার।


প্রথমে আসা যাক গারগাঞ্চুয়া নামের যে বিশাল ব্ল্যাকহোলটি এখানে দেখানো হয়েছে তার সম্ভাবনা যাচাইয়ে। সৌরভরের মিলিয়ন গুণ কৃষ্ণবিবর প্রতিটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকে, এ কথা জ্যোতিঃপদার্থবিদেরা নিশ্চিত করেছেন। আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রে আছে একটি ৪ মিলিয়ন সৌরভরের দানবীয় ব্ল্যাকহোল, সূর্য থেকে প্রায় ২৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে ধনু রাশির দিকে।


একে আকাশে স্যাজিটারিয়াস এ* বলে চিহ্নিত করা হয়। ‘স্টার’ চিহ্নিত কেননা এটি তুমুল এক্সরশ্মির বিকিরণ দেখায়। এ ছাড়া এটি প্রবল রেডিও তরঙ্গের উত্সও বটে। এ ধরনের ব্ল্যাকহোল সৃষ্টি হয় গ্যালাক্সি সৃষ্টির সময় থেকেই ঘনীভূত গ্যাসপিণ্ডের মহাকর্ষীয় পতন থেকে। অন্যদিকে সূর্যের তুলনায় ২০-৩০ গুণ ভরের নক্ষত্র যখন আয়ুষ্কালের শেষস্তরে পৌঁছায়, তখন সে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়। এরা সুপারম্যাসিভ বা দানবীয় ব্ল্যাকহোল থেকে ভিন্ন, তবে ব্ল্যাকহোলের মৌলিক ধর্মাবলি সবারই একই রকম। কেবল অতি দানবীয় ভরের ব্ল্যাকহোলের আশপাশে মহাকর্ষীয় প্রপঞ্চ নাটকীয় গুণে বেশি হবে, এই যা। ফলে গারগাঞ্চুয়ার মতো অতিদানব কৃষ্ণবিবরের কাছে স্থানকালের বঙ্কিমতা এত বেশি হবে যে সেখানে নানা চরম ঘটনা, যাদের কেবল তাত্ত্বিক সম্ভাবনা রয়েছে, মূর্ত হয়ে দেখা দিতে পারে। যেমন টেসারেক্টের ঘটনা। টেসারেক্ট হলো ঘনকের ভেতর ঘনক। অর্থাত্ এমন এক কাঠামো যেটা চতুর্মাত্রিক ঘনক বোঝায়। একটি বর্গক্ষেত্রের একমাত্রিক প্রতিচ্ছায়া যদি নেওয়া যায়, সেটা তবে একটি রেখা হবে, দুই মাত্রায় একটি ঘনকের প্রতিরূপ হবে বর্গাকৃতির। এই জ্যামিতিক যুক্তিতে ধারণা করা যায় যে একটি চতুর্মাত্রিক ঘনকের ত্রিমাত্রিক ছায়া হবে ঘনকের ভেতর ঘনক। এটি কোনো কল্পনার ব্যাপার নয়, এটি একটি জ্যামিতিক প্রতিভাস।


চার মাত্রার কঠিন বস্তু আমরা কল্পনা করতে পারি না। কারণ, আমরা তিন মাত্রায় অভ্যস্ত চতুর্মাত্রিক জীব, তাই টেসারেক্টের গঠন কল্পনা করতে অসুবিধা হয়। এ নিয়ে অবশ্য কার্ল সাগানের একটি চমত্কার ভিডিও আছে (ইউটিউব দেখতে পারেন: Flatland & the 4th Dimension - Carl Sagan)। কাজেই টেসারেক্টের যে কল্পনা এই মুভিতে দেখানো হয়েছে সেটা খুবই সম্ভব, বিশেষ করে দানবাকৃতির কৃষ্ণবিবরের ঘটনা দিগন্তের ধারে স্থানকাল যেভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় সেখানে। একে কীভাবে দেখাবে সেই অংশটা কাল্পনিক, কিন্তু টেসারেক্টের বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্যতা অপরিহার্য।


এই মুভিতে দানবাকৃতির ব্ল্যাকহোলটিকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেটা সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক। যেকোনো ব্ল্যাকহোল আশপাশ থেকে পদার্থ টেনে নেয়। ফলে এর পাশে পদার্থের একটি ঘুরন্ত ডিস্ক তৈরি হয়, একে বলে অ্যাক্রেশন ডিস্ক। দানবাকৃতির ব্ল্যাকহোলের পাশে এই ডিস্কটি আরও নাটকীয়ভাবে দেখা যাবে। একে কেমন দেখা যাবে সেটা নিয়ে কিপ থর্নসহ অন্য বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা আছে। মূলত কম্পিউটার সিমুলেশনভিত্তিক এই গণনায় ব্ল্যাকহোলের চারপাশের এই ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে আসা অ্যাক্রেশন ডিস্কটি অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে দেখা দেবে। ব্ল্যাকহোল যেহেতু আলো শুষে নেয়, তাই এতে দেখার কিছু নেই, কিন্তু ওই ডিস্কটি একটি চোখ ধাঁধানো দৃশ্যের অবতারণা করবে। ইন্টারস্টেলার মুভিতে যেভাবে দেখানো হয়েছে তার আরেকটু জটিল ব্যাখ্যা আছে। ব্ল্যাকহোলের সামনের দিকে যে ডিস্ক থাকবে তাকে তো দেখাই যাবে, কিন্তু সেটি ঘুরে যখন পেছনে যাবে তখন তাকেও দেখা যাবে এই কারণে যে ব্ল্যাকহোল তার পেছনের আলোকে বাঁকিয়ে দেয়। এ জন্য মুভিতে অ্যাক্রেশন ডিস্ককে ধনুকের মতো দেখায়।


মুভিতে আরেকটা জিনিস দেখায় (আরও অনেক জিনিস দেখায়, কিন্তু সব তো এই ছোট প্রবন্ধে শেষ করা যায় না) মিলারের গ্রহ নামের একটি সম্পূূর্ণ জলমগ্ন গ্রহ। সম্পূর্ণ জলমগ্ন গ্রহ কি সম্ভব?


এক্সোপ্লানেট বা বাহ্যগ্রহ নিয়ে কেপলার মিশনের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জেনেছি। যেমন হেন রকম ঘটনা নেই, যা বহুবিচিত্র বাহ্যগ্রহে ঘটে না। জ্যোতির্বিদ কালেব শার্ফ বলেন, ‘এখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য গ্রহগত গঠন ও পরিবেশের এক বিচিত্র রংধনু সমাবেশ খুঁজে পেয়েছেন। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে এমন সব গ্রহ, যাদের বাতাবরণে আছে জলীয় বাষ্প কিংবা আণবিক হাইড্রোজেন, মহাসামুদ্রিক গ্রহ, যাদের কোনো ডাঙাই নেই (শুধুই জলরাশি), কার্বনগ্রহ এবং তাদের বিচিত্র গ্রহবিজ্ঞান, এবং চিরস্থায়ী শৈত্যে আক্রান্ত তুষারিত ধরিত্রী যাদের বায়ুমণ্ডল পর্যন্ত জমে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়েছে। আছে অতি উত্তপ্ত, অতিশীতল, উষ্ণ কিংবা সামান্য গরম গ্রহ কিংবা এমন গ্রহ, যার মধ্যে এর সবগুলোই দেখা যায়। আছে রসায়নে সমৃদ্ধ গ্রহ, যাদের মধ্যে থাকবে অজানা যৌগের সমুদ্র, অনেকেই থাকবে পৃথিবীর মতোই। এমনকি রসায়নে দুর্বল গ্রহও থাকবে। শনির মতো ধুলা কিংবা বরফের বলয় যুক্ত গ্রহও থাকবে। অনেক গ্রহের উপগ্রহ থাকবে, কারও কারও উপগ্রহ হয়তো পৃথিবী বা মঙ্গলের মতোই বড় হবে, যাদের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল, মহাসমুদ্র ও স্থলভাগ থাকবে।’ কাজেই সম্পূর্ণ জলমগ্ন গ্রহের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জল না হয়ে সেখানে তরল অ্যামোনিয়া বা মিথেনের সাগর থাকতে পারে। শনির উপগ্রহ টাইটানেই তো মিথেনের হ্রদ আছে।


কাজেই মিলারের গ্রহ সম্পূর্ণ জলমগ্ন হতে বাধা নেই। আর সেখানে ১.২ কিলোমিটার উঁচু ঢেউ কীভাবে সম্ভব? সেটা সম্ভব গারগাঞ্চুয়ার প্রবল জোয়ার বলের কারণে। যখন কোনো ছোট বস্তু একটি বৃহত্ বস্তুর মহাকর্ষীয় প্রভাবের মধ্যে তখন একে ওপরের ওপর জোয়ার বল বা টাইডাল ফোর্স প্রয়োগ করে। এর উত্পত্তি হয় মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের ডিফারেন্সিয়াল প্রয়োগের কারণে। চাঁদ পৃথিবীর ওপর, পৃথিবী চাঁদের ওপর, বৃহস্পতি গ্রহ তার উপগ্রহদের ওপর জোয়ার বল প্রয়োগ করে। কাজেই মিলারের গ্রহের ওপরও জোয়ার বল কাজ করবে। তার ফলেই প্রবল জোয়ারের টানে পাহাড়প্রমাণ ঢেউ ছুটে আসে।


মুভিতে দেখানো পঞ্চমাত্রিক বাল্ক-বিয়িং কি সত্য, যারা টেসারেক্ট তৈরি করে ক্যাপ্টেন কুপারকে তাঁর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়েছিল? চার মাত্রার অতিরিক্ত আরও মাত্রা আছে কি না সেটা একান্তই কল্পনার ব্যাপার। স্ট্রিং থিওরি ও মাল্টিভার্সের তত্ত্বমতে, একাধিক মাত্রা সম্ভব, কিন্তু তাদের কোনো পরীক্ষণলব্ধ প্রমাণ নেই। চার মাত্রার তুলনায় পাঁচ বা ততোধিক মাত্রায় পদার্থবিজ্ঞান অনেক বেশি কৌতূহলোদ্দীপক হয়, অনেক ইন্টারেস্টিং ফিজিকসের দেখা মিলে। কাজেই তিনের বেশি মাত্রা হতেই পারে। তবে যতক্ষণ না তথ্যপ্রমাণ মিলছে ততক্ষণ বাল্ক-বিয়িংয়ের ধারণা কল্পনাতেই থাকুক।


মুভির একদম শেষে দেখা যায়, কুপারকে উদ্ধার করে এক স্পেসশিপে রাখা হয়েছে। স্পেসশিপটি একটি বহু প্রজন্মের স্টারশিপ, যাতে বহু হাজার লোক থাকতে পারে, সেখানে কৃত্রিম গ্র্যাভিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে মানুষের ভবিষ্যতের স্পেসমিশনের লক্ষ্যে এটা একটা শক্তিশালী বার্তা যেটা ক্রিস্টফার নোলানের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং অসাধারণ স্ক্রিপ্টের গুণে ভীষণ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।


লেখক: ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী

অধ্যাপক, তড়িেকৗশল ও ইলেকট্রনিকস বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়


সূত্র: প্রফেসর কিপ থর্ন, দ্য সায়েন্স অব দ্য ইন্টারস্টেলার, ২০১৪


*লেখাটি ২০১৭ সালে বিজ্ঞানচিন্তার জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

১৩.৮ বিলিয়ন বছর বয়সী মহাবিশ্ব কীভাবে ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষজুড়ে বিস্তৃত

 


আলো ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ভ্রমণ করেও আমরা কীভাবে ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের মহাবিশ্ব দেখতে পাই?ছবি: নাসা

মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। তবুও আজ পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের বিস্তৃতি প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। আপাতদৃষ্টিতে এটি অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। প্রশ্ন হলো, আলো যদি কেবল ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে ভ্রমণ করে থাকে, তবে আমরা ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের অঞ্চলগুলো কীভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারি? উত্তরটি লুকিয়ে আছে আধুনিক বিশ্বতত্ত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের মধ্যে। আমরা জানি, আলো যে স্থানের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে, একটু বড় পরিসরে দেখলে সেই স্থান নিজেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

আমাদের মহাবিশ্ব যদি স্থির হতো, তাহলে হয়তো হিসাবটা একটু সোজা হতো। এক বছরে আলো এক আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম করে, তাই ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পর সবচেয়ে দূরবর্তী পর্যবেক্ষণযোগ্য অঞ্চলটি ১৩.৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষের বেশি দূরে থাকার কথা নয়।

আমাদের মহাবিশ্ব স্থির নয়, এটি প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে
ছবি: নাসা

কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের মহাবিশ্ব স্থির নয়, এটি প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। এই গতিশীল স্থানকালকে বর্ণনা করার জন্যই রয়েছে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব। পর্যবেক্ষণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশের ভেতর একে অপরের থেকে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে না, বরং তাদের মাঝখানে থাকা ফাঁকা স্থান ক্রমশ আকারে বড় হচ্ছে।

আরও পড়ুন
এক বছরে আলো এক আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম করে, তাই ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পর সবচেয়ে দূরবর্তী পর্যবেক্ষণযোগ্য অঞ্চলটি ১৩.৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষের বেশি দূরে থাকার কথা নয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক দূরত্ব বোঝার সুবিধার্থে দূরত্বের বিভিন্ন সংজ্ঞা ব্যবহার করেন। যেমন লুকব্যাক টাইম আমাদের বোঝায়, আলো কোনো বস্তু থেকে আমাদের কাছে পৌঁছাতে প্রকৃতপক্ষে ঠিক কতটা সময় নিয়েছে। অন্যদিকে কোমুভিং দূরত্ব দেখায়, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বিবেচনা করে মহাজাগতিক বস্তুগুলো বর্তমানে ঠিক কত দূরে রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ল্যাম্বডা-সিডিএম মডেল অনুযায়ী, দিগন্ত বা পার্টিকেল হরাইজনের ব্যাসার্ধ প্রায় ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। অর্থাৎ পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। যদিও মহাজাগতিক প্যারামিটারগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই মানের সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

এই ফলাফলের গাণিতিক রহস্য লুকিয়ে আছে মহাবিশ্বের স্কেল ফ্যাক্টরের মধ্যে। এটি মূলত মহাজাগতিক দূরত্ব পরিমাপের একটি আপেক্ষিক সূচক, যা আমাদের জানায় যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাবিশ্ব কতটা প্রসারিত বা সংকুচিত হচ্ছে। সহজ কথায়, কোমুভিং দূরত্ব হলো এমন একধরনের পরিমাপ, যা মহাবিশ্বের স্থান প্রসারণের প্রভাবকে বাদ দিয়ে দুটি বস্তুর মধ্যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রসারণের হারকে ধ্রুবক হিসেবে ধরে রাখে।

শুরুর দিকের ছোট মহাবিশ্বের সেই সামান্য দূরত্বও প্রসারণের ফলে আজকের দিনে এক বিশাল কোমুভিং দূরত্বে রূপান্তরিত হয়
ছবি: মিডজার্নির সাহায্যে তৈরি

ঠিক যেমন বেলুনের গায়ে আঁকা দুটি ফোঁটার মধ্যকার গ্রিড-পয়েন্টের নম্বর বদলায় না। যদিও বেলুনটি ফুললে আসল দূরত্ব বেড়ে যায়। আলো যখন দূরবর্তী কোনো গ্যালাক্সি থেকে আমাদের দিকে আসতে থাকে, তখন স্থান নিজেই প্রসারিত হতে থাকায় আলোর অতিক্রান্ত দূরত্ব কেবল সময় আর আলোর বেগের গুণফল থাকে না। শুরুর দিকের ছোট মহাবিশ্বের সেই সামান্য দূরত্বও প্রসারণের ফলে আজকের দিনে এক বিশাল কোমুভিং দূরত্বে রূপান্তরিত হয়। ফলে মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর হলেও, প্রসারণের সম্পূর্ণ ইতিহাস যুক্ত হয়ে এর আজকের কোমুভিং ব্যাসার্ধ বা বর্তমান সীমানা প্রায় ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন
সহজ কথায়, কোমুভিং দূরত্ব হলো এমন একধরনের পরিমাপ, যা মহাবিশ্বের স্থান প্রসারণের প্রভাবকে বাদ দিয়ে দুটি বস্তুর মধ্যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রসারণের হারকে ধ্রুবক হিসেবে ধরে রাখে।

মহাবিশ্বের ইতিহাস জানার অন্যতম প্রধান উপকরণ কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বা মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি। এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যা বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার বছর পর মহাবিশ্ব কিছুটা ঠান্ডা হলে মহাশূন্যে মুক্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিগ ব্যাংয়ের পর শুরুর দিকে মহাবিশ্ব ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং সমগ্র মহাবিশ্বজুড়ে ঘন এক প্লাজমা অবস্থা বিরাজ করছিল। সেখানে ইলেকট্রন এবং প্রোটন বা নিউক্লিয়াসগুলো বিচ্ছিন্নভাবে তীব্র বেগে ছুটাছুটি করছিল। আলোককণা বা ফোটন যখনই তৈরি হচ্ছিল, তখনই সেগুলো উন্মুক্ত ইলেকট্রনগুলোর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আটকে যাচ্ছিল। ফলে আলো কোথাও দূরে ভ্রমণ করতে পারছিল না। অনেকটা কুয়াশার মধ্যে যেমন আলোর রশ্মি আটকে যায়, ঠিক তেমনি পুরো মহাবিশ্ব ছিল আলোর জন্য এক অদৃশ্য কুয়াশার চাদরে ঢাকা।

মহাবিশ্বের ইতিহাস জানার অন্যতম প্রধান উপকরণ কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বা মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি
ছবি: উইকিপিডিয়া

বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার বছর পর মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে প্রায় ৩ হাজার কেলভিনে নেমে আসে। এই তাপমাত্রায় ইলেকট্রন এবং নিউক্লিয়াসগুলো একত্র হয়ে স্থায়ী হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করতে শুরু করে। অর্থাৎ তখন পুনঃসংযোজন শুরু হয়ে যায়। কুয়াশা কেটে যাওয়ার মতো মহাবিশ্ব তখন হঠাৎ ফাঁকা এবং স্বচ্ছ হয়ে যায়। ফোটন বা আলোককণাগুলো বাধা না পেয়ে মহাশূন্যে মুক্তভাবে যাত্রা শুরু করে। আলো প্রথম মুক্ত হওয়ার এই মুহূর্তকে বলে সারফেস অব লাস্ট স্ক্যাটারিং। আজকের দিনে আমরা টেলিস্কোপে যে সিএমবি দেখি, তা মূলত ওই মুহূর্তেরই বিকিরণ। যদিও এটি বিগ ব্যাংয়ের একদম শুরুর মুহূর্তের আলো নয় এবং এর অবস্থান আমাদের তাত্ত্বিক পার্টিকেল হরাইজনের কিছুটা ভেতরে, তবুও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্ল্যাঙ্ক স্যাটেলাইটে ধারণকৃত এই বিকিরণের সূক্ষ্ম পরিমাপই নিশ্চিত করেছে, মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর।

আরও পড়ুন
কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যা বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার বছর পর মহাবিশ্ব কিছুটা ঠান্ডা হলে মহাশূন্যে মুক্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষের এই চিত্রটিই কিন্তু পুরো মহাবিশ্ব নয়, এটি কেবল পর্যবেক্ষণযোগ্য অঞ্চলের বর্ণনা দেয়। বিশেষত মহাবিশ্বের যেসব অংশ থেকে সংকেত আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে, যেসব সংকেত মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের তথ্য বহন করে আসছে, এটি শুধু তার হিসাব। পৃথিবী থেকে ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে কোনো দৃশ্যমান প্রাচীর নেই এবং পৃথিবী কোনো বিশেষ কেন্দ্রীয় জায়গায়ও অবস্থান করে না। মহাবিশ্বের অন্য কোথাও যেকোনো পর্যবেক্ষকের ক্ষেত্রে তাঁদের কেন্দ্র করে একটি নিজস্ব পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব রয়েছে।

পৃথিবী থেকে ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে কোনো দৃশ্যমান প্রাচীর নেই
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের কণা দিগন্তের বাইরে যা রয়েছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণের উপযোগী নয়। আসলে পুরো মহাবিশ্বটি বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণযোগ্য অংশের চেয়ে আকারে অনেক বড় হতে পারে। অন্যভাবে বলা যায়, এর স্থানিক ব্যাপ্তি অসীমও হতে পারে। বর্তমান পরিমাপগুলো এর মোট আকার নির্ধারণ করতে পারে না। আসলে মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর হলেও, মহাবিশ্বের অত্যন্ত দূরবর্তী অঞ্চলগুলোর মধ্যে স্পেসটাইমের সম্প্রসারণের আপেক্ষিক গতি আলোর গতির চেয়েও বেশি হওয়ার কারণে আমরা আজ ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের সীমা পর্যন্ত বস্তু দেখতে পাই। আর এই সীমার ওপারে কী আছে, তা আলো এখনো আমাদের কাছে না পৌঁছানোর কারণে সরাসরি দেখা সম্ভব নয়।

লেখক: গবেষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ বিচার সহায়ক বিজ্ঞান পরীক্ষাগার, কলকাতা, ভারত

ছুটির দিনে দেখতে পারেন মাটির নিচের জগৎ নিয়ে ১০টি সাই-ফাই মুভি

সাইলো সিরিজের তৃতীয় সিজন শেষ হওয়ার পর মাটির নিচের জগৎ নিয়ে তৈরি সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলোর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ নতুন করে জেগে বেড়েছে। অ্যাপেল টিভির এই সিরিজে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বিশ্বব্যাপী ন্যানোটেক যুদ্ধের পর মানবজাতিকে বাঁচাতে জর্জিয়ায় মাটির নিচে ৫০টি বিশাল বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছিল, যার প্রতিটিতে ১০ হাজার মানুষ বাস করত।

হলিউড কয়েক দশক ধরেই মাটির নিচের জগৎ নিয়ে এমন দারুণ সব সায়েন্স ফিকশন সিনেমা তৈরি করে আসছে। ভূতাত্ত্বিক দিক দিয়ে এই মুভিগুলো কতটা বিজ্ঞানসম্মত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে মাটির নিচের অজানা পরিবেশে মানুষের টিকে থাকার লড়াই দর্শকদের সব সময়ই মুগ্ধ করে। সাইলোর অভাব মেটাতে আজ এমন ১০টি আন্ডারগ্রাউন্ড সাই-ফাই মুভির তালিকা নিয়ে এসেছি, যেগুলো আপনার চিন্তার জগতকে আক্ষরিক অর্থেই মাটির নিচে নিয়ে যাবে।

১

জার্নি টু দ্য সেন্টার অব দ্য আর্থ

জার্নি টু দ্য সেন্টার অব দ্য আর্থ মুভির পোস্টার
জার্নি টু দ্য সেন্টার অব দ্য আর্থ মুভির পোস্টার
ছবি: টিএমবিডি

মুক্তি: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৯

পরিচালক: হেনরি লেভিন

জুল ভার্নের ক্লাসিক উপন্যাসের এটি সবচেয়ে চমৎকার অ্যাডাপ্টেশন। একজন বিখ্যাত ভূতাত্ত্বিক একটি আইসল্যান্ডিক আগ্নেয়গিরির ফাটল দিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রে যাওয়ার পথ খুঁজে পান। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন তাঁর সহকারী, এক বিধবা নারী এবং একজন আইসল্যান্ডিক গাইড।

মাটির নিচে তাঁরা আবিষ্কার করেন আটলান্টিসের হারিয়ে যাওয়া শহর, বিশাল মাটির নিচের মহাসাগর এবং চকচকে স্ফটিকের গুহা। কিন্তু তাঁদের পিছু নেওয়া এক প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানীর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে তাঁরা কি এই জাদুকরী জগত থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পেরেছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ১৯৫৯ সালের হেনরি লেভিনের মুভিটিতে।

আরও পড়ুন
২

হিডেন

হিডেন মুভির পোস্টার
হিডেন মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

পরিচালক: দ্য ডাফার ব্রাদার্স

নেটফ্লিক্সের বিখ্যাত সিরিজ স্ট্রেঞ্জার থিংস-এর নির্মাতাদের তৈরি এই মুভিটি অত্যন্ত আন্ডাররেটেড একটি রত্ন। একটি ভয়ংকর ভাইরাল সামরিক বোমাবর্ষণের পর একটি পরিবার নিজেদের বাঁচানোর জন্য মাটির নিচের একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়।

মাটির ওপরে এখন এমন কিছু ভয়ংকর হিউম্যানয়েড প্রাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে, যারা এই পরিবারটিকে খুঁজছে। চরম ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা এই পরিবারের আসল রহস্যটা কী? বাইরের ওই প্রাণীগুলোই বা আসলে কারা? কোথা থেকে এল এসব প্রাণী? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে হিডেন মুভিতে।

আরও পড়ুন
৩

সিটি অব এমবার

সিটি অব এমবার মুভির পোস্টার
সিটি অব এমবার মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ১০ অক্টোবর, ২০০৮

পরিচালক: গিল কেনান

সাইলো সিরিজের সঙ্গে এই মুভিটির দারুণ মিল রয়েছে। পৃথিবী যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন মানবজাতিকে বাঁচানোর জন্য মাটির নিচে এমবার নামে এক বিশাল শহর তৈরি করা হয়েছিল। কথা ছিল ২০০ বছর পর মানুষ আবার মাটির ওপরে ফিরে যাবে। কিন্তু ২০০ বছর পেরিয়ে গেলেও শহরের দুর্নীতিবাজ মেয়র সত্য গোপন করে রাখেন।

শহরের জেনারেটর যখন বিকল হতে শুরু করে এবং খাবার ফুরিয়ে আসে, তখন দুই কিশোর-কিশোরী, লিনা এবং ডুন, মাটির ওপরে যাওয়ার পথ খোঁজার চেষ্টা করে। কিন্তু শহরের এত কড়া পাহারার মধ্যে তারা কি সত্যিই সেই লুকানো পথ খুঁজে মানবজাতিকে আবার আলোর মুখ দেখাতে পারবে?

আরও পড়ুন
৪

ফার্স্ট মেন ইন দ্য মুন

ফার্স্ট মেন ইন দ্য মুন মুভির পোস্টার
ফার্স্ট মেন ইন দ্য মুন মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ৬ আগস্ট, ১৯৬৪

পরিচালক: নাথান জুরান

এইচ জি ওয়েলসের ১৯০১ সালের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই মুভিটি চাঁদে মানুষের পা রাখার ৫ বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল। ১৯৬৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক দল চাঁদে গিয়ে আবিষ্কার করে, প্রায় ৬০ বছর আগে ব্রিটিশরা এখানে একটি গোপন মিশন চালিয়েছিল!

ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে দেখানো হয়, ১৮৯৯ সালে সেই ব্রিটিশ অভিযাত্রীরা চাঁদের পৃষ্ঠের নিচে প্রবেশ করে এক অদ্ভুত পতঙ্গ-মানব সভ্যতার সন্ধান পেয়েছিল। চাঁদের মাটির নিচের সেই সিলিনাইট সভ্যতার পরিণতি শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল? মানুষের সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরই কি তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল?

আরও পড়ুন
৫

অ্যাট দ্য আর্থস কোর

অ্যাট দ্য আর্থস কোর মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ১৫ জুলাই, ১৯৭৬

পরিচালক: কেভিন কনর

বিখ্যাত ফ্যান্টাসি লেখক এডগার রাইস বারোজের গল্প অবলম্বনে তৈরি এই কাল্ট ক্লাসিক মুভিটিতে এক ভিক্টোরিয়ান বিজ্ঞানী একটি বিশাল ড্রিলিং মেশিন তৈরি করেন। তিনি এবং তাঁর এক আমেরিকান সঙ্গী সেই মেশিনে চেপে মাটির ৪ হাজার মাইল গভীরে এক এক্সপ্লোরেটরি মিশনে বেরিয়ে পড়েন।

সেখানে তাঁরা আবিষ্কার করেন পৃথিবীর ভেতর এক ফাঁপা জগত রয়েছে, যেখানে এখনো প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতা টিকে আছে! কিন্তু এই অদ্ভুত জগতের ডানাওয়ালা রাক্ষসগুলোর হাত থেকে কি তাঁরা নিজেদের এবং বলি হতে যাওয়া কুমারী মেয়েদের বাঁচাতে পেরেছিলেন? সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে মুভিতেই।

আরও পড়ুন
৬

দ্য ডিসেন্ট

দ্য ডিসেন্ট মুভির পোস্টার
ছবি: টিএমবিডি

মুক্তি: ৮ জুলাই, ২০০৫

পরিচালক: নিল মার্শাল

যাঁদের বদ্ধ জায়গায় ভয় আছে, এই মুভিটি তাঁদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হতে পারে! ছয়জন নারী অ্যাডভেঞ্চারার নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার এক অচেনা এবং অজানা গুহায় প্রবেশ করেন। মাটির গভীরে পথ হারিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, সেখানে তাঁরা একা নন! হাজার বছর ধরে মাটির নিচে বাস করা একদল ভয়ংকর, মাংসাশী, নরখাদক প্রাণী তাঁদের শিকার করার জন্য ওত পেতে আছে।

হাড়হিম করা এই হরর মুভিটি আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভয়ে কাঁপিয়ে ছাড়বে। মাটির নিচের ওই রক্তপিপাসু দানবদের হাত থেকে কি এই ছয় নারীর কেউ শেষ পর্যন্ত জীবিত ফিরতে পারবেন?

আরও পড়ুন
৭

জার্নি টু দ্য সেন্টার অব দ্য আর্থ

জার্নি টু দ্য সেন্টার অব দ্য আর্থ মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ১১ জুলাই, ২০০৮

পরিচালক: এরিক ব্রেভিগ

১৯৫৯ সালের ক্লাসিক মুভির এই থ্রিডি রিমেকটি মূলত এক দারুণ অ্যাডভেঞ্চার স্টোরি। একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী তাঁর ভাইপো এবং একজন গাইড মিলে নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে আইসল্যান্ডের এক আগ্নেয়গিরির ভেতর দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। মাটির নিচে তাঁরা এক জাদুকরী দুনিয়ার সন্ধান পান, যেখানে ডাইনোসর ঘুরে বেড়ায়, সমুদ্রের নিচে দানব বাস করে আর উজ্জ্বল লাভা বয়ে চলে!

অত্যাধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং সিজিআই দিয়ে সাজানো এই মুভিটি আপনাকে এক দারুণ কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে। কিন্তু পৃথিবীর কেন্দ্রের এই আদিম ও ভয়ংকর সুন্দর জগত থেকে তাঁরা কি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে পৃথিবীর বুকে ফিরে আসতে পেরেছিলেন?

আরও পড়ুন
৮

দ্য কোর

দ্য কোর মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ২৮ মার্চ, ২০০৩

পরিচালক: জন অ্যামিয়েল

জুল ভার্নের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত এই মুভিটি আপনাকে বিজ্ঞানের সব যুক্তি ভুলে গিয়ে শুধু বিনোদনের দুনিয়ায় ভাসিয়ে দেবে। পৃথিবীর ভেতরের কোর হঠাৎ করেই ঘোরা বন্ধ হয়ে গেছে! ফলে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্রে ভয়ংকর সব পরিবর্তন আসছে, যা পুরো মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সভ্যতাকে বাঁচাতে একদল বিজ্ঞানী একটি বিশেষ ড্রিলিং জাহাজে করে পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে যাত্রা করেন। তাঁদের লক্ষ্য সেখানে কয়েকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কোরটিকে পুনরায় সচল করা। চরম তাপ ও চাপের মুখে পৃথিবীর কেন্দ্রে পৌঁছানোর এই আত্মঘাতী মিশনে কি তাঁরা সফল হয়েছিলেন? নাকি পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য ছিল?

আরও পড়ুন
৯

১০ ক্লোভারফিল্ড লেন

১০ ক্লোভারফিল্ড লেন মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ১১ মার্চ, ২০১৬

পরিচালক: ড্যান ট্র্যাকটেনবার্গ

২০০৮ সালের ক্লোভারফিল্ড মুভির এই অসাধারণ সিক্যুয়েলটিতে মিশেল নামে এক মেয়ে গাড়ি দুর্ঘটনার পর জ্ঞান ফিরে দেখে সে মাটির নিচের এক বাঙ্কারে বন্দী! হাওয়ার্ড এবং এমেট নামে দুজন তাকে জানায়, বাইরের পৃথিবীতে এক ভয়ংকর এলিয়েন আক্রমণ হয়েছে। বাতাস বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাই তারা তাকে বাঁচানোর জন্য এখানে আটকে রেখেছে।

কিন্তু মিশেল তাদের কথা বিশ্বাস করতে পারে না। বাঙ্কারের ভেতরের এই মানুষগুলো কি সত্যিই তাকে বাঁচাচ্ছে, নাকি তারাই তার আসল শত্রু? বাইরের জগতটা কি সত্যিই এলিয়েনদের দখলে চলে গেছে, নাকি পুরোটাই হাওয়ার্ডের সাজানো কোনো নাটক? এই রুদ্ধশ্বাস প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনাকে বাঙ্কারের দরজা খুলে মিশেলের সঙ্গে বের হতেই হবে!

আরও পড়ুন
১০

দ্য মোল পিপল

দ্য মোল পিপল মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমবিডি

মুক্তি: ১ ডিসেম্বর, ১৯৫৬

পরিচালক: ভার্জিল ডব্লিউ ভোগেল

১৯৫০-এর দশকের এই ক্লাসিক মুভিটি আমাদের নিয়ে যাবে পৃথিবীর একদম গভীরে, যেখানে এক অদ্ভুত অন্ধকার সাম্রাজ্য বিরাজমান। একদল বিজ্ঞানী এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মাটির হাজার ফুট গভীরে এমন এক সুমেরিয়ান সভ্যতার সন্ধান পান, যারা একদল ভয়ংকর মোল বা ছুঁচো দানবকে দাস হিসেবে ব্যবহার করে তাদের মাশরুমের খামার দেখাশোনা করাচ্ছে।

সাদা চামড়ার এই সুমেরিয়ানরা কীভাবে মাটির এত গভীরে বেঁচে আছে? সেই ভয়ংকর ছুঁচো দানবদের হাত থেকে কি বিজ্ঞানীরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাঁচাতে পেরেছিলেন, নাকি তাঁরাও ওই মাটির নিচেই চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে এই সাদাকালো জাদুকরী মুভিটি আপনাকে দেখতেই হবে!

তাহলে আর দেরি কেন? পপকর্ন নিয়ে বসে পড়ুন আর এই মুভিগুলোর সঙ্গে, ডুব দিন মাটির নিচের এক অন্যরকম দুনিয়ায়!

সূত্র: স্পেস ডটকম

অবসরে দেখতে পারেন সায়েন্স ফিকশন মুভি ইন্টারস্টেলার (Interstellar)...

মুভির নাম: ইন্টারস্টেলার পরিচালক ও লেখক: ক্রিস্টোফার নোলান ধরন: থ্রিলার, ড্রামা, অ্যাডভেঞ্চার  প্রকাশকাল: ২০১৪ ব্যাপ্তি: ২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট আই...