Bbb

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

গণত্রাণের ১০ কোটি টাকা ব্যাংকে আছে, তার ৮ কোটি আছে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে

 গণত্রাণের ১০ কোটি টাকা ব্যাংকে আছে, তার ৮ কোটি যাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বন্যার্তদের জন্য গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে ত্রাণ কার্যক্রমের হিসাবসংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণত্রাণের ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা দুটি ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে। বাকি ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মানুষের জন্য খরচ করা হবে।


মঙ্গলবার রাতে টিএসসি মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ত্রাণ কার্যক্রমের হিসাবসংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশসহ উত্তরবঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম এবং সার্বিক পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।


ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা পাওয়া যায়নি বলে জানান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী ও অডিটর গোলাম ফজলুল কবির।


সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, মোট ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪২০ টাকার তহবিল সংগ্রহ হয়েছিল। এর মধ্যে ৯ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ টাকা নগদ এবং বাকি টাকা মোবাইল ব্যাংকিং, প্রাইজ বন্ড, ডলার ও অন্যান্য মাধ্যমে আসে। এর মধ্যে মোট খরচ হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ২০৭ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা রয়েছে।


ফজলুল কবির বলেন, ‘তাঁরা (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) জরুরি ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়েছিলেন। তবে আমরা বলেছি, এগুলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে থাকা উচিত নয়। এতে আইনগতভাবে এর মালিকানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাতে থাকে না। তাঁরা আমাদের কথা শুনেছেন'।


সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় বন্যা পুনর্বাসন কেন্দ্রের সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা এই টাকাটা দুইভাবে খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৮ কোটি টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে আমাদের পাঁচটি টিম সেখানে গেছে। সেখানে জেলা প্রশাসন ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করব। আগামীকাল থেকেই সেটি শুরু হবে।’

2

তহবিলে টাকা বেড়ে যাওয়ার কারণ

ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করে গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি আর্থিক হিসাব দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখানে ১১ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৯ টাকা আয় এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার ৭৯৪ টাকার হিসাব দেওয়া হয়। সেই হিসাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাছে অবশিষ্ট ছিল ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭৫ টাকা। কিন্তু নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবশিষ্ট রয়েছে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা।


অবশিষ্ট টাকার এই অমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের আগের হিসাব ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এরপরও আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে অর্থ এসেছে, যেগুলো অডিটে যোগ হয়েছে। এ ছাড়া অনেকগুলো চেক এসেছিল, যেগুলো আমরা তখন ক্যাশ করাতে পারিনি। সেগুলো ক্যাশ করার পর এখানে যুক্ত করা হয়েছে। অনেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে চেক দিয়েছেন। কিন্তু তখনো এই নামে আমাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না।’


হাসনাত বলেন, ‘ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে অনেকে গয়না দিয়েছেন, যেগুলো আমরা বিক্রি করে টাকা পেয়েছি। টিএসসিতে ত্রাণ কার্যক্রমের পর থেকে যাওয়া কার্টুন এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির টাকা যোগ হয়েছে। এ ছাড়া এক বস্তার মতো কয়েন ছিল, যেখানে ২ লাখ টাকার বেশি হয়েছে। এগুলো আগে গণনা করা যায়নি। এসব কারণে অবশিষ্ট টাকার পরিমাণ বেড়ে গেছে। একজন ব্যক্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছিলেন, কিন্তু অ্যাকাউন্ট না থাকায় তখন আমরা সেটি তুলতে পারিনি।’


সংবাদ সম্মেলনে আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা চাইলে শুরুতেই একটি অডিট রিপোর্ট করে দিতে পারতাম। কিন্তু তাতে স্বচ্ছতা নিরূপণ করা যেত না। আমরা কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই অডিট ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা সময় নিয়ে কাজটি করে আজ প্রতিবেদন দিয়েছে।’


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার, আবদুল কাদের, মাহিন সরকার, হাসিব আল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজে বাধা দেবে না ইরান

 

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও আইনিভাবে প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা সুবিধার অভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলো এই রুট দিয়ে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এ ছাড়া প্রণালিতে অবস্থানরত বা প্রবেশ করতে চাওয়া প্রায় হাজার খানেক জাহাজ বর্তমানে আটকা পড়ে আছে। অনেক জাহাজ তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ করে যাতায়াত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ জোরদার করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে, সরকারের অনুরোধে ইরান আশ্বস্ত করেছে, বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না।

সোমবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদীর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নিশ্চয়তা মিলেছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী বা সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তার তেল ও এলএনজিবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতা চায়।

ইরান এতে সম্মতি জানিয়ে একটি শর্ত দিয়েছে- বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগেই যেন তাদের অবস্থান ও পরিচয় ইরান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। এতে করে ভুলবশত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলো বর্তমানে এই রুট দিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা সুবিধার অভাবে বর্তমানে অন্তত এক হাজার জাহাজ এই করিডোরে আটকা পড়ে আছে। অনেকে আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ করে চলাচলের চেষ্টা করলেও ঝুঁকি কাটছে না। তবে ইরানের এই আশ্বাসের পর বাংলাদেশের জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের ওপর বাংলাদেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যনির্ভরতা আরও বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আজ পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা মাথায় রেখে ভারতের কাছ থেকে বাড়তি ডিজেল আমদানির পরিকল্পনাও করছে সরকার।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। গতকালই সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ২০৫ টন জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্যপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজার তদারকি জোরদার করেছে।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দেয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আজ বাংলাদেশে আসছে পাঁচ হাজার টন ডিজেল।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনে করে এ ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছনোর কথা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকার কথা জানানো হয়েছে। নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি জ্বালানি তেল, গ্যাস ও এলএনজির সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যেদিকে মোড় নিচ্ছে তাতে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যেরও সংকট তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।