Bbb

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজে বাধা দেবে না ইরান

 

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ। ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও আইনিভাবে প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা সুবিধার অভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলো এই রুট দিয়ে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এ ছাড়া প্রণালিতে অবস্থানরত বা প্রবেশ করতে চাওয়া প্রায় হাজার খানেক জাহাজ বর্তমানে আটকা পড়ে আছে। অনেক জাহাজ তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ করে যাতায়াত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ জোরদার করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে, সরকারের অনুরোধে ইরান আশ্বস্ত করেছে, বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না।

সোমবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদীর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নিশ্চয়তা মিলেছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী বা সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তার তেল ও এলএনজিবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতা চায়।

ইরান এতে সম্মতি জানিয়ে একটি শর্ত দিয়েছে- বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগেই যেন তাদের অবস্থান ও পরিচয় ইরান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। এতে করে ভুলবশত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলো বর্তমানে এই রুট দিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা সুবিধার অভাবে বর্তমানে অন্তত এক হাজার জাহাজ এই করিডোরে আটকা পড়ে আছে। অনেকে আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ করে চলাচলের চেষ্টা করলেও ঝুঁকি কাটছে না। তবে ইরানের এই আশ্বাসের পর বাংলাদেশের জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের ওপর বাংলাদেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যনির্ভরতা আরও বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আজ পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা মাথায় রেখে ভারতের কাছ থেকে বাড়তি ডিজেল আমদানির পরিকল্পনাও করছে সরকার।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। গতকালই সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ২০৫ টন জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্যপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজার তদারকি জোরদার করেছে।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দেয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আজ বাংলাদেশে আসছে পাঁচ হাজার টন ডিজেল।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনে করে এ ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছনোর কথা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকার কথা জানানো হয়েছে। নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি জ্বালানি তেল, গ্যাস ও এলএনজির সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যেদিকে মোড় নিচ্ছে তাতে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যেরও সংকট তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন