পোস্টগুলি

বিমানের দিকে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ করা কেন অপরাধ?

ছবি
বিমানের দিকে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ করা কেন অপরাধ? আকাশে যদি একটি লেজার লাইট মারা হয়, তাহলে আপনার মনে হতে পারে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত যেয়ে এ লাইট নিশ্চয় থেমে যাবে। আকাশে উড়া বিমান পর্যন্ত হয়তো পৌঁছাবে না। তবে এ কথা সত্য নয়।  এমনকি একটি খুবই স্বল্প মানের শক্তি সম্পন্ন লেজার রশ্মি বিমান যে উচ্চতায় সচরাচর উড়ে, সে উচ্চতা পর্যন্ত যেতে সক্ষম। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন। একটি এক মিলিওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন লেজার রশ্মি ২০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত ঠিকঠাকভাবে পৌঁছে গেছে।  এই লেজার রশ্মি বিমানের পাইলটের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এমনকি এ লেজার রশ্মি পাইলটের চোখে গেলে পাইলট সাময়িক অন্ধও হয়ে যেতে পারেন।  আরেকটি বিষয় একটু লক্ষ্য করুন। একটি রশ্মি যত দূড় যাবে, এটির বিস্তৃতিও তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। একটি মিলিমিটার ডট আকারের লেজার রশ্মি কয়েক কিলোমিটার দূড়ে এক ইঞ্চি পরিমাণ বিস্তৃতি জায়গা জুড়ে দিতে পারে। এতে বিমানের পাইলট নানা ভুল ধারণা পেতে পারেন ও বিমান চালানোর সময় নানা ভাবে বিরক্তি বোধ করতে পারেন। এর ফলাফল স্বরূপ বিমানের ক্র্যাশ ল্যান্ডিংও হতে পারে।  শাস্তি  আমেরিকার ফেডারেল কোর্টের নিয়...

সমুদ্রের পানি নীল রং এর হয় কেন?

ছবি
সমুদ্রের পানি নীল রং এর হয় কেন?? সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশিকে একসঙ্গে নীল দেখায়। আকাশে বাতাসের অণুর মতো সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশির অণুগুলো সূর্যরশ্মির নীল বর্ণকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। ফলে বাইরে থেকে তাকালে সমুদ্রের জলরাশিকে নীল দেখায়। আমরা জানি সূর্যের আলো বা রোদ মূলত ৭ টি ভিন্ন ভিন্ন রঙের সমষ্টি। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। রঙগুলো বিশেষ মাত্রায় একের পর এক সাজানো থাকে। সূর্যের আলো যখন সমুদ্র পৃষ্ঠে পড়ে তখন লাল কমলা ও হলুদ রঙ সমুদ্রের জল কর্তৃক দ্রুত শোষিত হয় বটে, কিন্তু নীল রঙ আরও দ্রুত সমুদ্র গর্ভের প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়ে। যে কারণে রোদেলা দিনে সমুদ্রকে নীল দেখায়। ক্যামেরায় তোলা সমুদ্রজলের ফটো  নীল আকাশের প্রতিফলনের কারণে বড় লেক বা সমুদ্রের পানি নীল দেখায় এটা আমরা সাধারণভাবে ধরে নিই। কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়। আসলে পানির রঙ নীল এবং সে কারণেই মূলত সমুদ্র নীল দেখায়। কথাটা সহজে বিশ্বাস হয় না। মনে হয় পানির তো কোনো রঙ নেই। এক গ্লাস পানির দিকে তাকালেই এটা বোঝা যায়। তাহলে আমরা কীভাবে বলব যে পানির রঙ নীল? এ বিষয়টি বোঝার জন্য আমরা পানিতে আলোর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষ...

আলোর গতি ও সময় ভ্রমণ

 এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার হলো সময় ভ্রমণ বা আলোর গতিতে চলা।  আলোর গতি ই তো সবচেয়ে দ্রুততর, তাইনা? তিন লক্ষ কিঃমিঃ পার সেকন্ড। এতো দ্রুতবেগে চলতে পারে এমন কোনো বস্ত এখনো আবিস্কার হয়নি। এতো দ্রুততম চলার মতো কোনো রকেট/স্পেসশিপ/যানবাহন তথ্য ও প্রযুক্তির এত উন্নতশীল যুগে বিজ্ঞান আবিস্কার করতে পারেনি। তবে ভবিষ্যৎকালে এমন কিছু আবিস্কার হবে কি না। তার সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। কারণ ভরযুক্ত কোনো বস্ত এত দ্রুত চলতে অক্ষম।  আমরা জানি, মহাবিশ্বে আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। আর কোনো বস্তুতে আলো এসে পরলে আমরা সেই বস্তুটিকে দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বলা যায়,সূর্যের আলো এসে যখন কোনো বস্তুতে পড়বে এরপর আমরা বস্তুটিকে দেখতে পাই। এর আগে কখনোই দেখা সম্ভব নয়।  সূর্য আমাদের থেকে ৮.১৯ মিনিটস দূরে অবস্থান করছে। সূর্যের আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে তারপরই আমরা তাকে দেখতে পাই। আমরা সবসময় ৮.১৯ মিনিটস আগের সূর্যকে দেখি। আমরা জানি, শূন্য মাধ্যমে আলোর গতি 300,000 কিঃমিঃ পার সেকেন্ড। সে হিসেবে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব 149,700,000 কোটি কিঃমিঃ বা প্রায় 15 কোটি কি...

১৪ বিলিয়নে ৯৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ

ছবি
১৪ বিলিয়নে ৯৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ! দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সমাধান। আমাদের মহাবিশ্বের বয়স ১৪ বিলিয়ন বছর। কিন্তু পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের ব্যাস ৯৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। আমরা জানি, কোনো কিছুই আলোর গতির থেকে বেশি গতিতে যেতে পারে না। তাহলে সে হিসেব অনুসারে পর্যবেক্ষণযোগ্যমহাবিশ্বের ব্যাস ১৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ৯৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ! তাহলে মহাবিশ্ব কি আলোর গতির থেকে বেশি গতিতে এগিয়েছিলো? কিন্তু তা কী করে সম্ভব? এটা বোঝার আগে আমরা দুটো বিষয়ের ওপর পরিষ্কার ধারণা নিয়ে নেবো। ডপলার শিফট ডপলার এফেক্ট আমরা অনেকেই জানি তবুও একটা টাচ দিচ্ছি। আপনি স্থির দাঁড়িয়ে আছেন, দূর থেকে একটি মোটরবাইক হর্ন বাজিয়ে আপনার দিকে আসছে। বাইকটি আপনার যত নিকটবর্তী হচ্ছে হর্নের শব্দও তত জোরালো শোনাচ্ছে। বাইকটি আপনাকে অতিক্রম করে গেলো। বাইকটি আপনার কাছ থেকে যত দূরবর্তী হচ্ছে হর্নের শব্দও তত ক্ষীণ শোনাচ্ছে। ওপরের ঘটনাটি আমরা সবাই প্রত্যক্ষ করেছি। এই ঘটনা থেকে আমরা দুটো সিদ্ধান্তে আসতে পারি- উৎস (বাইক) থেকে উৎপন্ন শব্দ আপনার যত নিকটবর্তী হতে থাকবে শ্রুত শব্দ তত তীব্র হবে। উৎস (বাইক) থেকে উৎপন্ন শব্দ আ...